
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলাে যুবদল নেতা ইউসুফ খানকে হত্যা করে মরদেহ ইটভাটায় মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি হানিফ ও রিজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) টাঙ্গাইল-এর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেকুল আজিজের আদালতে তারা এই জবানবন্দি দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর থানার ওসি মো. রাসেদ।
পুলিশ জানায়, নিখোঁজের চার দিন পর গত ১৭ মার্চ আজগানা ইউনিয়নের একটি ইটভাটার মাটির নিচ থেকে ইউসুফ খানের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইউসুফ ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ঘাগড়াই কুড়াতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. দুলাল খানের ছেলে।
মামলার বাদী পান্না আক্তারের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইউসুফ মাটির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাকের চাপে রাস্তার পাশের একটি গাছ ভেঙে যাওয়াকে কেন্দ্র করে হানিফ ও তার সহযোগীরা ইউসুফের কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ মার্চ কৌশলে ইউসুফকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় রিজন, হানিফ ও তাদের সহযোগীরা। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে হানিফ ও রিজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইটভাটা থেকে ইউসুফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পর মরদেহটি ইটভাটার মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আগুনে পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা ছিল আসামিদের।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গোড়াই-সখীপুর সড়কের হাটুভাঙ্গা এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
নিহতের পরিবারও দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। ইউসুফ খানের বাবা-মা ও স্ত্রী বলেন, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। শুনানির তারিখ নির্ধারণ হলে তাদের রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।