
রাজধানী ঢাকা-র দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।
সভায় রাজধানীর ট্রাফিক পরিস্থিতি দ্রুত উন্নত করতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ট্রাফিক সিগন্যালগুলো দেশীয় প্রযুক্তিতে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রায় ১২০টি সিগন্যাল আধুনিকায়ন করা হবে। পাশাপাশি শহরের চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং ভেতরে ওভারপাস ও আন্ডারপাস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি সিদ্ধান্ত হলো ঢাকার ভেতরে থাকা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে যত্রতত্র বাস কাউন্টার অপসারণ এবং সিটি সার্ভিসের জন্য আলাদা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া ফুটপাত দখলমুক্ত করা, রাস্তার মাঝখানে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ, রেলক্রসিংয়ে অটো সিগন্যাল চালু এবং সিটি বাসগুলোকে জিপিএস ব্যবস্থার আওতায় আনার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফুটওভার ব্রিজগুলোতে চলন্ত সিঁড়ি এবং হাসপাতাল এলাকার ব্রিজে লিফট স্থাপনের উদ্যোগও রয়েছে।
সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এপ্রিলের মধ্যেই যানজট পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি আসতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সভা শেষে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপগুলো আগে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অটোরিকশা চালকদের বিকল্প কর্মসংস্থান নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যাতে ধীরে ধীরে তাদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যায়।
সার্বিকভাবে, রাজধানীর অচলাবস্থা দূর করতে এই সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।