
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাত ভাইয়া গ্রামে যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে ফারহানা (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) সকালে এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসে এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত ফারহানা কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার নলচর গ্রামের কালাচাঁন মিয়ার মেয়ে। পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্বামী সাগর বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য ফারহানাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
ফারহানার ছোট বোন তানজিলার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে বিদেশে যাওয়ার কথা বলে সাগরকে চার লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন বিদেশে থাকার পর তিনি দেশে ফিরে আবারও নতুন করে যৌতুক দাবি করতে থাকেন। এ বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। পরিবারের অভিযোগ, সর্বশেষ শনিবার রাতেও এ নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়।
পরদিন খবর পেয়ে ফারহানার স্বজনরা তার বাসায় গিয়ে তাকে ঘরের মেঝেতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং দীর্ঘদিনের যৌতুক নির্যাতনের এক নির্মম পরিণতি।
ঘটনার পর নিহতের বাবা বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ফারহানার স্বামী সাগরকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও দুইজনের নামও অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিববুল্লাহ জানান, ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধিকে কেন্দ্র করে নারীদের ওপর নির্যাতন ও মৃত্যুর অভিযোগ নতুন নয়। তবে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
বর্তমানে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। নিহত ফারহানার পরিবার ন্যায়বিচারের আশা করছে।