
ডিসিপি জটিলতার কারণে ঈদের প্রথম দিন স্টার সিনেপ্লেক্সে শাকিব খান অভিনীত আলোচিত সিনেমা ‘প্রিন্স’ প্রদর্শিত না হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা তৈরি হয়। ঈদের ছুটিতে প্রিয় নায়কের নতুন সিনেমা বড় পর্দায় দেখার অপেক্ষায় থাকা অনেক দর্শক প্রথম দিনে সিনেপ্লেক্সে গিয়ে ফিরে যান। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অন্য সিনেমার টিকিট কেটেছেন, আবার অনেকে শো না থাকায় হতাশ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। ফলে সিনেমাটি ঘিরে আগে থেকেই তৈরি হওয়া আগ্রহের মাঝেও শুরুতে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা তৈরি হয়।
তবে সেই জটিলতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দ্বিতীয় দিন রাতে প্রদর্শনসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান হওয়ার পর স্টার সিনেপ্লেক্সের সব শাখায় ‘প্রিন্স’ সিনেমার শো চালু হয়। এতে স্বস্তি ফিরে আসে দর্শক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। রাজধানীর একটি শাখায় রাত ৮টা ১০ মিনিটের শো শুরু হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে টিকিট বিক্রি হয়ে যায় বলে জানা গেছে। এতে বোঝা যায়, প্রথম দিনের প্রদর্শনী বন্ধ থাকলেও দর্শকদের আগ্রহে কোনো ভাটা পড়েনি; বরং শাকিব খানের জনপ্রিয়তা সিনেমাটিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
সিনেমাপ্রেমীদের একটি বড় অংশের কাছে ঈদের ছবি মানেই বাড়তি উন্মাদনা। আর সেই জায়গায় ‘প্রিন্স’ ছিল এবারের ঈদের অন্যতম প্রতীক্ষিত মুক্তি। ডিসিপি জটিলতার কারণে প্রথম দিন স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটি না চললেও, দ্বিতীয় দিন থেকেই দর্শক উপস্থিতি প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ছবিটি ঘিরে প্রত্যাশা অনেক বেশি। বিশেষ করে নগরকেন্দ্রিক মাল্টিপ্লেক্স দর্শকদের আগ্রহ সিনেমাটির সম্ভাব্য বক্স অফিস সাফল্যের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, দর্শকের চাহিদা বিবেচনায় অতিরিক্ত শো যুক্ত করার বিষয়টি তারা ভাবছেন। সাধারণত কোনো সিনেমার প্রতি শুরুতেই এমন চাপ তৈরি হলে সেটি বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ইতিবাচক বার্তা দেয়। সিনেপ্লেক্সে শো বাড়ানো হলে ছবিটি আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে পারবে, যা ঈদ মৌসুমে এর আয় বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে।
এদিকে দেশের প্রেক্ষাগৃহ বাজারেও ‘প্রিন্স’ শক্ত অবস্থান নিয়েই যাত্রা শুরু করেছে। ঈদ উপলক্ষে সারা দেশে সর্বোচ্চ ১৩৩টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত এই সিনেমা। এত বড় পরিসরে মুক্তি পাওয়া থেকেই বোঝা যায়, হলমালিক ও পরিবেশকদের মধ্যে সিনেমাটি নিয়ে আস্থা ছিল শুরু থেকেই। নির্মাতা-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মুক্তির আগেই বুকিং ও রেন্টাল থেকে কয়েক কোটি টাকা উঠে এসেছে। অর্থাৎ প্রেক্ষাগৃহে পূর্ণমাত্রায় প্রদর্শনী শুরুর আগেই সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ‘প্রিন্স’ রমরমিয়ে চলছে বলে জানা গেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ঈদ মৌসুমে সিনেমাটি বড় সাফল্য পেতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে একদিকে শাকিব খানের তারকাখ্যাতি, অন্যদিকে ঈদের ছুটিতে পরিবারকেন্দ্রিক বিনোদনের চাহিদা—দুই মিলিয়ে ‘প্রিন্স’ ভালো ব্যবসা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিসিপি জটিলতা সাধারণ দর্শকের কাছে খুব বেশি পরিচিত বিষয় না হলেও, সিনেমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এটি বড় একটি কারিগরি ও আনুষ্ঠানিক বিষয়। ফলে এ ধরনের জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত প্রদর্শনী শুরু করতে পারা প্রযোজক, পরিবেশক ও সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির বিষয়। কারণ মুক্তির প্রথম কয়েকটি দিনই সাধারণত একটি সিনেমার বক্স অফিস ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শুরুর বাধা কাটিয়ে ‘প্রিন্স’ এখন ঈদের সিনেমা দৌড়ে ভালোভাবেই ফিরে এসেছে। স্টার সিনেপ্লেক্সে শো শুরু হওয়া, টিকিটের দ্রুত বিক্রি, অতিরিক্ত শো নিয়ে ভাবনা এবং সারা দেশে বড় পরিসরে প্রদর্শনী—সবকিছু মিলিয়ে সিনেমাটি এখন ইতিবাচক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সামনে দর্শক আগ্রহ একইভাবে বজায় থাকলে ‘প্রিন্স’ ঈদ মৌসুমের অন্যতম সফল সিনেমা হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করতে পারে।