
নি এটিকে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ বলে উল্লেখ করেন। কারণ, বড় উৎসবের আগে শ্রমিকদের আর্থিক নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা গেলে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা কমে এবং উৎপাদন পরিবেশও স্বাভাবিক থাকে।
জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠী ও কৃষকদের সহায়তায় কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণের বোঝা কমাতে ঋণ মওকুফের মতো পদক্ষেপও বিবেচনায় রয়েছে। তার মতে, বৈশ্বিক সংকটের সময় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে সীমিত আয়ের মানুষ এবং কৃষি খাতের ওপর। সে কারণে সরকার এই দুই শ্রেণিকে বিশেষভাবে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এ ছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক সহায়তার অংশ হিসেবে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য চলমান ভাতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে সরকারের সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় তিনি দেশবাসীর প্রতি সংযম, সহযোগিতা ও সহানুভূতির আহ্বান জানান। তার ভাষায়, এমন সময় সবার উচিত অপচয় কমানো, একে অন্যের পাশে দাঁড়ানো এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকা। তিনি মনে করেন, সরকারের একক পদক্ষেপের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ থাকলে আন্তর্জাতিক সংকটের অভিঘাত অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব।
মোটের ওপর, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি অনিশ্চয়তার মধ্যেও সরকার দেশে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ, ঈদযাত্রা, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা এবং নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তা—সব মিলিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি করেছে সরকার। এখন দেখার বিষয়, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে এই স্থিতিশীলতা কতদিন ধরে রাখা সম্ভব হয়।