
পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলিম সমাজে আনন্দ, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এই দিনে ছোটদের খুশি করতে কিংবা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে ‘ঈদ সালামি’ দেওয়ার একটি প্রচলন দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী—তা জানা অনেকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে, কোনো কাজ তখনই বৈধ, যখন তা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ নয়। সেই হিসেবে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশ্যে অর্থ বা উপহার দেওয়া সম্পূর্ণ বৈধ। রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগের প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়—এমন নির্দেশনা হাদিসেও রয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া বা আত্মীয়তার বন্ধন মজবুত করার নিয়তে সালামি দেওয়া একটি প্রশংসনীয় কাজ হতে পারে।
তবে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো ফরজ বা সুন্নত বিধানও নয়। বরং এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতি। ফলে একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা কেউ সালামি না দিলে তাকে দোষারোপ করা ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক নয়।
এ বিষয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন-এর চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার এক বক্তব্যে বলেন, ইসলামে ‘সালাম’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা মুখে উচ্চারণ করে একে অপরের শান্তি কামনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কোরআনেও সালামের জবাব দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে শিশুদের সালাম দেওয়ার পর বড়রা তাদের সালামের জবাব দিয়ে উপহার হিসেবে কিছু অর্থ দিয়ে থাকেন, যা একটি সংস্কৃতি হিসেবে গড়ে উঠেছে। এতে কোনো সমস্যা নেই, কারণ এটি কোরআন-হাদিসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। তবে পা ছুঁয়ে সালাম করার মতো প্রথা থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি এবং বলেন, কাউকে এমনভাবে বাধ্য করা ঠিক নয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া ইসলামে বৈধ একটি সামাজিক প্রথা। তবে এটিকে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা হিসেবে না দেখে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য প্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করাই উত্তম।