
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সরকার দেশের ডিজিটাল যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখার ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। দেশটিতে অবস্থানরত কূটনীতিক এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থার ফলে অফিস কর্মীদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে, তরুণদের বারবার ভিপিএন পরিবর্তন করতে হচ্ছে এবং অনলাইন নেভিগেশন না থাকায় ট্যাক্সিচালকরাও সমস্যায় পড়ছেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এই পদক্ষেপগুলো দুই কারণে নেওয়া হয়েছে। প্রথমত, বিদেশি কোম্পানিগুলো রুশ আইন মানতে অনীহা প্রকাশ করছে। দ্বিতীয়ত, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। এই পদক্ষেপের মধ্যে সরকারের লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং যুদ্ধকালীন সময়ে জনসমর্থন ধরে রাখা।
সরকার ইতোমধ্যে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। একই সঙ্গে শত শত ভিপিএন সেবা ব্লক করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে না পারে। চলতি বছরের শুরুতে রাশিয়ায় ৪০০টিরও বেশি ভিপিএন সেবা ব্লক করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দিয়েছে ব্যবহারকারীদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য। এর পাশাপাশি অনলাইন পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আইন এবং ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপগুলি শুধুমাত্র যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি নয়, ভবিষ্যতে ভিন্নমত দমনেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানী মস্কো এবং অন্যান্য শহরগুলোতে এই নিয়ন্ত্রণের ফলে দৈনন্দিন জীবনের অনেক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটেছে। অফিস কর্মীরা অনলাইন কাজ করতে পারছেন না, শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণে সমস্যায় পড়ছেন, এবং ভ্রমণকারীদের জন্য ন্যাভিগেশন বন্ধ থাকায় সমস্যা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ক্রেমলিনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। এটি দেখাচ্ছে যে, রাশিয়া ডিজিটাল যোগাযোগের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভিপিএন ও মেসেজিং অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ করতে প্রস্তুত।
মোট মিলিয়ে, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এই পদক্ষেপ সাইবার নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও কূটনৈতিক মহলে নজরকাড়া বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।