
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে অভিযান পরিচালনা করছে উপজেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে যাত্রী ভেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছেই অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় দুই মাহেন্দ্র চালককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাথী দাস সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি সাধারণ যাত্রীর মতো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ভাড়া সংক্রান্ত অনিয়ম শনাক্ত করেন।
জানা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে ঘাট এলাকায় যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। এই সুযোগে কিছু পরিবহন চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে দুই চালক ইউএনও সাথী দাসকে সাধারণ যাত্রী ভেবে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া দাবি করেন। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই দুই চালককে জরিমানা করা হয়।
শুধু তাই নয়, অভিযানের সময় বাসের দুই যাত্রীর কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত ভাড়াও ফেরত দেওয়া হয়। এতে উপস্থিত যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে এবং প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে তারা স্বাগত জানান।
এ বিষয়ে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাথী দাস জানান, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় দুই চালককে জরিমানা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ঘাট এলাকায় যাতে কোনো ধরনের ভাড়া নৈরাজ্য বা যাত্রী হয়রানি না ঘটে, সেজন্য প্রশাসন সর্বক্ষণ তৎপর রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ঈদের সময় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দেশের অন্যতম ব্যস্ত রুটে পরিণত হয়। এই সময়ে লাখো মানুষ রাজধানী ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে যাতায়াত করে। ফলে ঘাট এলাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যানজট এবং যাত্রী ভোগান্তির অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়।
প্রশাসনের এমন তৎপরতা যাত্রীদের জন্য স্বস্তির খবর হলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যার সমাধানে আরও কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সাধারণ যাত্রীরাও আশা করছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যেন কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা হয়রানি না হয়। তারা প্রশাসনের এই ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে ঈদ মৌসুমজুড়ে তদারকি জোরদার রাখা হবে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে প্রশাসন।