
চট্টগ্রামের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা টেরিবাজারে একটি বহুতল মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা মুহূর্তেই আশপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানের ফলে এক ঘণ্টার মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে টেরিবাজারের কেবি মার্কেট নামের একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ তলায় হঠাৎ করে আগুন লাগে। ভবনটি মার্কেট কাম রেসিডেন্স টাইপের হওয়ায় সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বসবাসের ব্যবস্থাও রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভবনের ভেতরে থাকা লোকজন দ্রুত নিচে নেমে আসার চেষ্টা করেন। অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, কারণ আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরাও ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের দুটি স্টেশন থেকে মোট চারটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেন এবং বিভিন্ন দিক থেকে পানি ছিটিয়ে আগুনের বিস্তার রোধ করার চেষ্টা চালান।
ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মন্নান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং দ্রুত কাজ শুরু করে। তিনি বলেন, “১২তলা এই মার্কেট-কাম-রেসিডেন্স ভবনের চতুর্থ তলায় আগুন লাগে। আমাদের সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আগুন বেশি ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।”
প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
তবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট কিংবা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
এই ঘটনায় ভবনের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই তাদের দোকান ও বাসার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আগুনের কারণে কিছু দোকানের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহুতল মার্কেট ও আবাসিক ভবনে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে আগুন নেভানোর প্রাথমিক সরঞ্জাম, জরুরি নির্গমন পথ এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।
চট্টগ্রামের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এমন অগ্নিকাণ্ড ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সচেতনতা ও তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।