
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump শিগগিরই হোয়াইট হাউসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী Sanaye Takaichi-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে টোকিওর কাছ থেকে আরও সক্রিয় সহায়তা চাওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সম্ভাবনা জাপানকে একটি জটিল পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে। দেশটির শান্তিবাদী সংবিধান সামরিক সহায়তায় কড়াকড়ি আরোপ করে, ফলে ওয়াশিংটনকে কতটুকু সহায়তা দেওয়া সম্ভব—তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে টোকিও। ট্রাম্প এর আগে মিত্র দেশগুলোর সীমিত সহায়তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এবং বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও Strait of Hormuz অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংবিধান সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে দেশের ভেতরে ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনমতের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণে এখন পর্যন্ত তিনি সরাসরি সামরিক সহায়তার কোনো ঘোষণা দেননি। জাপানের পার্লামেন্টেও তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অনুরোধ এখনও পাওয়া যায়নি, যদিও সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে।
এদিকে জার্মানি, ইতালি ও স্পেনের মতো কয়েকটি বড় মিত্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের এই অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকে ট্রাম্প জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বা সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিতে পারেন।
তবে জাপানের জন্য কূটনৈতিক একটি বিকল্প পথও খোলা রয়েছে। তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকার কারণে টোকিও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায়ও আসতে পারে। যদিও অতীতে এই প্রচেষ্টা সফল হয়নি, তবুও বর্তমান সংকটে তা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, দুই নেতা শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং বাণিজ্য, জ্বালানি, সরবরাহ চেইন ও প্রযুক্তি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করবেন। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে জাপানের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প-তাকাইচি বৈঠকের ফলাফল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।