
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ছেড়ে গ্রামে ফেরার ঢল নেমেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোর থেকেই বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়ে যায়। ঢাকার বিভিন্ন টার্মিনাল ও স্টেশনজুড়ে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, যা ঈদযাত্রার চিরচেনা চিত্রই আবারও সামনে এনেছে।
Gabtoli Bus Terminal-এ দূরপাল্লার বাসগুলো নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যেতে দেখা গেলেও যাত্রীদের অভিযোগ, কিছু পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। যদিও পরিবহন মালিকরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা, যা যাত্রাপথে বিলম্বের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মহাসড়কেও ঘরমুখো মানুষের চাপ তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে Chandra Mor এলাকায় কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। গণপরিবহন সংকট ও দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ট্রাক বা পিকআপে করেই গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন। এতে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
রেলপথেও যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও বেশিরভাগ ট্রেন ১০-১৫ মিনিট দেরিতে ছাড়ছে, তবুও সকাল থেকে একাধিক ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে। তবে বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার প্রভাব পড়েছে কিছু রুটে। ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থা করা হলেও অনেক যাত্রীকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আসন না পেয়ে কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে যাত্রা করছেন।
নৌপথেও একই চিত্র দেখা গেছে Sadarghat Launch Terminal-এ। ভোররাত থেকেই লঞ্চে উঠতে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ধারণক্ষমতা পূর্ণ হলেই লঞ্চগুলো ছেড়ে যাচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পরও যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতার কিছু ঘাটতি দেখা গেছে, তারপরও পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপনের আনন্দই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।