
রমজান মাস শেষের পথে, সামনে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হয়েছে এবং নগরবাসীর বড় একটি অংশ নিজ নিজ গ্রামে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শহর ছাড়ার এই সময়টিতে অনেক বাসা কয়েকদিনের জন্য ফাঁকা পড়ে থাকে।
তবে তাড়াহুড়োর মধ্যে বাসা ঠিকভাবে গুছিয়ে না গেলে ফিরে এসে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। যেমন—দুর্গন্ধ, নষ্ট খাবার, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল কিংবা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি।
তাই ঈদের ছুটিতে বাসা ফাঁকা রেখে যাওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রথমত, বাসার সব দরজা ও জানালা ভালোভাবে বন্ধ আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু মূল দরজায় তালা দিলেই যথেষ্ট নয়। কোনো জানালা খোলা থাকলে বৃষ্টির পানি ঢুকে ঘরের ক্ষতি হতে পারে কিংবা চুরির ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, বাসার অপ্রয়োজনীয় সব বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ রাখতে হবে। লাইট, ফ্যান, টিভি, চার্জারসহ অন্যান্য যন্ত্রের সুইচ বন্ধ করার পাশাপাশি প্লাগ খুলে রাখা আরও নিরাপদ। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ বিলও বাড়বে না।
তৃতীয়ত, রান্নাঘরের গ্যাস সংযোগ অবশ্যই ভালোভাবে পরীক্ষা করে বন্ধ রাখতে হবে। চুলা ও সিলিন্ডারের রেগুলেটর ঠিকভাবে বন্ধ না থাকলে গ্যাস লিকেজের মাধ্যমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
চতুর্থত, বাসার সব পানির ট্যাপ পরীক্ষা করে বন্ধ করতে হবে। সম্ভব হলে পানির মেইন লাইন বন্ধ রাখা উত্তম। এতে পানির অপচয় ও লিকেজজনিত সমস্যাও এড়ানো যাবে।
পঞ্চমত, ফ্রিজে থাকা সহজে নষ্ট হয়ে যায় এমন খাবার আগে থেকেই ফেলে দেওয়া বা খেয়ে শেষ করা উচিত। দীর্ঘদিন খাবার রেখে দিলে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হতে পারে। প্রয়োজনে ফ্রিজ বন্ধ রেখে দরজা সামান্য খোলা রাখা যেতে পারে।
ষষ্ঠত, বাসায় থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। টাকা, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লকারে রাখা বা বিশ্বস্ত আত্মীয়-প্রতিবেশীর কাছে রেখে যাওয়াই ভালো।
সবশেষে, বাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিবেশী বা নিরাপত্তাকর্মীদের জানিয়ে যাওয়া উচিত। এতে আপনার অনুপস্থিতিতে বাসার দিকে নজর রাখা সহজ হয় এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দ্রুত প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বাড়ি ছাড়ার আগে এই ছোট ছোট বিষয়গুলো নিশ্চিত করলেই বড় ধরনের ঝামেলা এড়ানো সম্ভব। সচেতনতা ও সামান্য প্রস্তুতিই পারে আপনার ঈদযাত্রাকে আরও নিরাপদ ও নির্ভার করে তুলতে।