
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নওগাঁয় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী মেহেদি উৎসব।
বুধবার (১৮ মার্চ) শহরের ড্যাফোডিলস স্কুল প্রাঙ্গণে ‘টিম জেড’-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এই উৎসব প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এই আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করতে সহযোগিতা করেছে নওগাঁ মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড।
উৎসবজুড়ে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরা এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ, যেখানে ঈদের আমেজ আগেভাগেই ছড়িয়ে পড়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে।
ঈদের আনন্দকে রঙিন করে তুলতে বিভিন্ন বয়সী নারীরা ভিড় জমিয়েছেন অর্গানিক মেহেদি দিয়ে হাত রাঙাতে।
তরুণীদের নিপুণ হাতে ফুটে উঠেছে নানা নকশার শৈল্পিকতা। লতাপাতা, ফুল, আলপনা ও সূক্ষ্ম কারুকাজের মাধ্যমে মেহেদির নকশাগুলো হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয়।
কারও হাতে গভীর গাঢ় রঙের নান্দনিকতা, আবার কারও হাতে মৃদু রঙের কোমল সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে উৎসবটি যেন এক রঙিন আবহ তৈরি করেছে।
উৎসবে অংশ নেওয়া তরুণীরা জানান, এমন আয়োজন তাদের জন্য আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা।
তারা বলেন, ঈদের আগেই এই ধরনের উৎসবের মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ পাওয়া সত্যিই বিশেষ কিছু।
তরুণী ফাতেমা জান্নাত বলেন, “ঈদের আগে এমন আয়োজন আমাদের খুব ভালো লাগছে। আগে গ্রামবাংলায় মেহেদি পাতা তুলে হাতে লাগানোর যে ঐতিহ্য ছিল, তা এখন অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। এই অর্গানিক মেহেদি সেই ঐতিহ্যেরই একটি সুন্দর প্রতিফলন।”
উৎসবের উদ্যোক্তা মার্শিয়া রহমান জানান, এই আয়োজনে ব্যবহৃত সব মেহেদিই সম্পূর্ণ অর্গানিক।
তিনি বলেন, “আমরা কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করিনি, তাই এটি ত্বকের জন্য নিরাপদ। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী নকশা বেছে নিতে পারছেন।”
তিনি আরও জানান, মেহেদির নকশা অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।
আয়োজকদের একজন সোহাইল ইসলাম সারজা বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে ‘টিম জেড’-এর এটি প্রথম মেহেদি উৎসব।
তিনি জানান, “সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
সার্বিকভাবে বলা যায়, নওগাঁর এই মেহেদি উৎসব ঈদের আগেই আনন্দের রঙ ছড়িয়ে দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মনে এক বিশেষ অনুভূতির জন্ম দিয়েছে।