
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ইরান।
তবে এই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-কে জানিয়েছে তেহরান।
জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা আইএইএ এক বিবৃতিতে জানায়, ইরান তাদেরকে জানিয়েছে যে বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের চত্বরে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে।
তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবকাঠামো অক্ষত রয়েছে এবং কোনো কর্মী আহত হয়নি।
এই ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে।
সংঘাতের এই পরিস্থিতিতে পারমাণবিক স্থাপনাকে ঘিরে যেকোনো হামলা বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক মহলে।
আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, পারমাণবিক স্থাপনার কাছে যেকোনো ধরনের হামলা বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এর আগে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থাও এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
দেশটির তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে বন্দরনগরী বুশেহরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে।
এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
তারা জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির আশপাশে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
উল্লেখ্য, বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা।
১৯৭০-এর দশকে একটি জার্মান কোম্পানি এই কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে রাশিয়ার সহায়তায় এটি সম্পন্ন হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক স্থাপনার কাছে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হতে পারে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মতো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এই ধরনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, বুশেহর কেন্দ্রের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে বড় ক্ষতি না করলেও এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও পারমাণবিক ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।