
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে শক্তিশালী ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১৮ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একাধিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বোমা ব্যবহার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব বোমার প্রতিটির ওজন প্রায় ৫ হাজার পাউন্ড এবং এগুলো শক্ত কংক্রিট ও মাটির গভীরে থাকা স্থাপনাও ধ্বংস করতে সক্ষম।
এই ধরনের বোমা সাধারণত ‘বাংকার বাস্টার’ নামে পরিচিত, যা ভূগর্ভস্থ বা শক্তভাবে সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ব্যবহৃত হয়।
মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ছিল, যা হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করছিল।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়ে থাকে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
এই প্রেক্ষাপটেই ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড নির্দিষ্ট করে জানায়নি, ঠিক কোন ধরনের বোমা ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হামলায় সাধারণত জিবিইউ-২৮ অথবা জিবিইউ-৭২ অ্যাডভান্সড ৫কে বোমা ব্যবহার করা হয়।
এর মধ্যে জিবিইউ-৭২ ব্যবহারের সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জিবিইউ-৭২ একটি উন্নতমানের ‘জয়েন্ট ডিরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন’ (জেডিএএম), যা স্যাটেলাইট ও নেভিগেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
২০২১ সালে প্রথম পরীক্ষিত এই বোমাটি আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়।
এয়ার ফোর্স টাইমসের ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ধরনের বোমার প্রতিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার ডলার।
তবে এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আরও ভারী ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমার তুলনায় কম শক্তিশালী।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা শুধু সামরিক নয়, বরং একটি কৌশলগত বার্তাও বহন করে।
এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করতে চায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।