
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায়, দুস্থ ও অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় শাড়ি, থ্রিপিস, রুমাল এবং নগদ অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম শকু।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং আগামী মাস থেকে কৃষি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
এমপি শওকতুল ইসলাম আরও বলেন, দীর্ঘদিন সঠিক নেতৃত্বের অভাবে কুলাউড়া উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে ছিল। তবে এখন উন্নয়নের কাজ দৃশ্যমান হবে এবং দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কুলাউড়ার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করা হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুল ইসলাম। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পালের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, সাবেক আহ্বায়ক রেদোয়ান খান এবং ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান, কুলাউড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান, প্রেসক্লাব কুলাউড়ার সিনিয়র সহসভাপতি ময়নুল হক পবন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল বারী সোহেল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মহি উদ্দিন রিপনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলার মোট ৮৫০ জন উপকারভোগীর মধ্যে শাড়ি, থ্রিপিস এবং হাজি রুমাল বিতরণ করা হবে।
এর পাশাপাশি আরও ১ হাজার অসহায় মানুষকে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যাদের আর্থিক সামর্থ্য কম, তাদের জন্য এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই উদ্যোগ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। একই সঙ্গে এটি সামাজিক সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে।