
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এই নিয়োগের পরপরই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই নিয়োগের সমালোচনা করে লিখেছেন, “কোটা না, মেধা? স্লোগান দিয়ে প্রাণ দেওয়া জাতির বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হলেন, লাগারে লাগা ধান লাগা স্লোগান দিয়ে। কী ঘৃণ্য!”
তার এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন, আবার কেউ কেউ ভিন্নমতও প্রকাশ করছেন।
ডা. মাহমুদা মিতু তার আরেকটি পোস্টে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তরুণ প্রজন্মের অনুভূতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের তরুণরা এখন আগের মতো নেই এবং তারা নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়।
তিনি লেখেন, “এই অনুভূতি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের। যাদের জুলাই রাজনীতি সচেতন করেছে। যারা বাংলাদেশকে আর পুরোনো বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিতে চায় না।”
তার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এখনো বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে, যা দুঃখজনক।
ডা. মিতু আরও উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে যে আন্দোলন ও চেতনা কাজ করেছে, তা সবার মধ্যে সমানভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। তিনি বলেন, “যে জুলাইয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আজ সরকার গঠন করেছে, সেই জুলাইকে তারা হৃদয়ে ধারণ করে না।”
এছাড়াও, তিনি তার পোস্টে রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, অনেক সময় মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেও শঙ্কা কাজ করে।
এর আগে, গত ১১ মার্চ তিনি আরেকটি ফেসবুক পোস্টে এনসিপির নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তার মতো জনপ্রতিনিধির কারণেই সরকারের কিছু কার্যক্রম জনগণের সামনে এসেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ভিসি নিয়োগ সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। এই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে আলোচনা হওয়াই স্বাভাবিক।
তবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, যা এবারও দেখা গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক দেশের শিক্ষা খাতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যেকোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।