
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় তেলবাহী ট্রাকের চাপায় ফুলঝুরি খাতুন (৪৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছেলে লাভলু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার খালিশপুর কোল্ড স্টোরেজ কারখানার সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফুলঝুরি খাতুন উপজেলার নিমতলা গ্রামের ফকির আহমেদের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ফুলঝুরি খাতুন তার ছেলে লাভলুকে নিয়ে ভ্যানে করে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিলেন। ভ্যানটি তার ছেলে নিজেই চালাচ্ছিলেন।
পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী ট্রাক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর ট্রাকটি ভ্যানের ওপর উঠে যায় এবং ফুলঝুরি খাতুন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
গুরুতর আহত লাভলুকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এই দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের ওপর নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্থানীয়রা জানান, মা ও ছেলের এই যাত্রা ছিল চিকিৎসার উদ্দেশ্যে, কিন্তু তা পরিণত হয়েছে এক মর্মান্তিক ঘটনায়।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক এখনো পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, ওই সড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল করে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তারা সড়কে নিরাপত্তা জোরদার এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনার এমন পুনরাবৃত্ত ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা মনে করেন, চালকদের অসচেতনতা ও বেপরোয়া গতিই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ।
সার্বিকভাবে, এই দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।