
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের মহাসড়ক ও গণপরিবহন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং বাস কাউন্টারগুলোতে নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার আগেই প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এর ফলেই এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের যাত্রীদের ভোগান্তি বা অভিযোগ আমরা পাইনি। কোথাও কোনো যানজট নেই। দুই-তিনটি অভিযোগ পাওয়া গেলেও সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
তার মতে, রাজধানী থেকে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস ছেড়ে যাচ্ছে এবং যাত্রীরা তুলনামূলক স্বস্তিতে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।
ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট যমুনা সেতুতেও যানবাহনের চাপ বাড়লেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাভাবিক দিনের তুলনায় সেখানে প্রায় ৩২ হাজার বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা ঈদযাত্রার চাপের একটি স্বাভাবিক চিত্র।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সংকট হতে পারে—এমন গুঞ্জন নিয়েও কথা বলেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ রয়েছে এবং এ নিয়ে কোনো ধরনের সংকট নেই।
মন্ত্রী আরও জানান, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক কাজ করছে। কোথাও কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার চাইছে মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ঈদযাত্রা করতে পারে এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে। কিছু যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ তুললেও মন্ত্রী জানিয়েছেন, এসব অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই সড়কে চাপ বাড়ে। তবে এবার দীর্ঘ ছুটি থাকায় যাত্রীরা ধাপে ধাপে বাড়ি ফিরছেন, ফলে বড় ধরনের যানজট এড়ানো সম্ভব হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, সরকার ও প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী এবারের ঈদযাত্রা এখন পর্যন্ত স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। তবে যাত্রীদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে এই দাবির কতটা মিল রয়েছে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে।