
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ লক্ষ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে আজ ও আগামীকাল ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের আর্থিক লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখতে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু থাকবে।
এছাড়া রফতানি খাতে লেনদেন সচল রাখা এবং বিল ক্রয় কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাংক খোলা রাখা হবে, যাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
যেসব এলাকায় ব্যাংক খোলা থাকবে, তার মধ্যে রয়েছে—ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া ও সাভার, টঙ্গী ও গাজীপুর, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রাম। এসব এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখাগুলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী লেনদেন পরিচালনা করবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, এই দুই দিন ব্যাংকিং লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত। এরপরও অফিস কার্যক্রম চলবে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এছাড়া নামাজের জন্য বেলা ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতি রাখা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও নির্দেশ দিয়েছে, ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী ভাতা প্রদান করতে হবে। এতে কর্মীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এদিকে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখাগুলোকে লেনদেন চলাকালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ সময় ব্যাংক বন্ধ থাকলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে এবং শিল্প খাতে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
তাই এই সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।
একই সঙ্গে রফতানি খাতের কার্যক্রম সচল রাখা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকিং সেবা চালু থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমও স্বাভাবিক থাকবে।
সার্বিকভাবে, ঈদ উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলে ব্যাংক খোলা রাখার এই উদ্যোগ শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।