
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় খড়ের আগুনের ধোঁয়ায় সড়ক অন্ধকার হয়ে পড়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান সড়কের জলুরদিঘী পাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি বাঁশি মোহন দাশ (৫০), তিনি লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কের পাশে খড় পোড়ানোর কারণে ঘন ধোঁয়া সৃষ্টি হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে পুরো সড়ককে অন্ধকার করে ফেলে। এতে চালকদের দৃষ্টিসীমা মারাত্মকভাবে কমে যায়।
এই অবস্থায় দুটি ঈগল পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে মারসা পরিবহনের আরেকটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। তারা আহতদের উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—মোহাম্মদ (৫০), জয়নাল (৩০), মিন্টু দাশ (১৯), আনোয়ার (৩৮), নুরুল আলম (২৯), তাহের (৪৬), টিপু চৌধুরী (৩৬) এবং শিরিন আক্তার (৪৭)। তাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার ফলে সড়কে সাময়িকভাবে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে উদ্ধার কার্যক্রম শেষে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ জানান, খড় পোড়ানোর ধোঁয়ার কারণে সড়কে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে আসে। এতে একাধিক যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি বাস উদ্ধার করা হয়েছে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সড়কের পাশে খড় বা অন্যান্য বস্তু পোড়ানোর কারণে প্রায়ই এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তারা এ ধরনের কাজ বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সার্বিকভাবে, এই দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে সড়কের পাশে আগুন জ্বালানো এবং এর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়ার ঝুঁকি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।