
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকায় মশার উপদ্রব দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এতে করে পৌরবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ মশাবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পৌর এলাকার পশ্চিমপাড়া, বণিকপাড়া, ভোগপাড়া ও পূর্বপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব সবচেয়ে বেশি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে রাত তো বটেই, দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, নাগরিক সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা ন্যূনতম সেবা থেকেও বঞ্চিত। সরকারের পক্ষ থেকে মশা নিধনের উদ্যোগ থাকলেও মাঠপর্যায়ের গাফিলতির কারণে সেই কার্যক্রমের সুফল জনগণ পাচ্ছে না। বরং কাগজে-কলমে কার্যক্রম দেখানো হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা অনেক জায়গায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে, যার ফলে জমে থাকা পানিতে মশার বিস্তার বাড়ছে। বাজার এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনাও এই সমস্যাকে আরও তীব্র করে তুলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১ মার্চ পৌরসভা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মশা নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। তবে উদ্বোধনের পর দুই সপ্তাহ পার হলেও বাস্তবে কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। বিষয়টি নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিবছর দুই থেকে তিনবার মশা নিধনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেই অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে সাধারণ মানুষ অবগত নন। চলতি অর্থবছরেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে, কিন্তু তার বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় অনেকেই এটিকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন।
চরিয়াকোনা এলাকার বাসিন্দা কাশেস মিয়া বলেন, নিয়মিত কর দেওয়ার পরও তারা প্রত্যাশিত নাগরিক সুবিধা পাচ্ছেন না। মশা নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধনের কথা শুনলেও বাস্তবে কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোস্তাকুর রহমান গোলাপ জানান, গত ১০-১২ বছরের মধ্যে তাদের এলাকায় কার্যকর কোনো মশা নিধন কার্যক্রম চোখে পড়েনি। নিয়মিত পৌর কর পরিশোধ করলেও সেবার মান সন্তোষজনক নয় বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, পূর্বে মশা নিধনের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ ওষুধের তুলনায় কম সরবরাহ করা হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে ফগার মেশিনে ওষুধের পরিবর্তে পানি বেশি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকৃতপক্ষে মশা নিধনের পরিবর্তে লোক দেখানো কার্যক্রমই বেশি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
এ বিষয়ে কটিয়াদী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মহিউদ্দিন বরাদ্দের পরিমাণ সম্পর্কে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে কার্যক্রম শুরুতে বিলম্বের বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এবং আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, কটিয়াদী পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা জানান, মশার উপদ্রব বেশি হওয়ায় দ্রুত কার্যক্রম চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পৌর বাজেট থেকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে মশা নিধনের কাজ শুরু করা হবে এবং বরাদ্দ সংক্রান্ত তথ্য স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন কটিয়াদী পৌরবাসী। তাদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে এই সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।