
পিরোজপুরের Zianagar Upazila-এর ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নে ভিজিএফ (VGF) কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত এই চাল বিতরণ কার্যক্রমে জনপ্রতি ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক উপকারভোগী কম পরিমাণ চাল পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইউনিয়ন পরিষদের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নিচতলায় চাল বিতরণের সময় এই অভিযোগ সামনে আসে।
উপকারভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, অনেকেই ১০ কেজির পরিবর্তে সাড়ে ৮ থেকে ৯ কেজি পর্যন্ত চাল পেয়েছেন। এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে।
সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ ইন্দুরকানী গ্রামের দিনমজুর আবুল কালাম জানান, তিনি দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর চাল পেলেও নির্ধারিত পরিমাণ পাননি। তার হাতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৮ কেজি ৭০০ গ্রাম চাল।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন উত্তর ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা আকলিমা বেগম। তিনি বলেন, রোজা রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রত্যাশিত ১০ কেজির পরিবর্তে সাড়ে ৮ কেজি চাল পেয়েছেন।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. মাহামুদ হাসান জানান, ঈদ উপলক্ষে পরিষদে মোট ১৬ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ এসেছে। এই চাল ১ হাজার ৬০৪ জন উপকারভোগীর মধ্যে জনপ্রতি ১০ কেজি করে বিতরণের কথা। তবে কম দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা শিমুল বড়াল অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান তাকে না জানিয়েই চাল বিতরণ করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ করিম তালুকদার ইমন বলেন, সবাই যাতে অন্তত সাড়ে ৯ কেজির বেশি চাল পান সে জন্য শ্রমিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে মাপজোখের সময় শ্রমিকদের ভুলের কারণে কেউ কেউ কম বা বেশি পেয়ে থাকতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, যারা কম চাল পেয়েছেন তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রয়োজনে নিজের তহবিল থেকে চাল কিনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, যাতে কেউ অসন্তুষ্ট হয়ে বাড়ি না ফেরেন।
এদিকে Zianagar Upazila-এর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান জানান, চাল কম দেওয়ার অভিযোগ তিনি পেয়েছেন এবং ভুক্তভোগীরা সরাসরি তার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সার্বিকভাবে, ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।