
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যখন সারাদেশে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে, ঠিক তখনই আবহাওয়ার একটি সতর্ক বার্তা দিয়েছে Bangladesh Meteorological Department। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানতে পারে।
আবহাওয়াবিদ Md Omar Faruk জানান, ঈদের আগে ও পরে আবহাওয়া তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও ২০ ও ২১ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। একই সময়ে কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের উত্তরাঞ্চলে এই ঝড়ের প্রভাব বেশি পড়তে পারে। এসব এলাকায় দমকা হাওয়া, বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এ ধরনের ঝড় সাধারণত আকস্মিকভাবে সৃষ্টি হয় এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তাই ঈদের দিনে ভ্রমণ বা বাইরে অবস্থানকারী মানুষদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
এরই মধ্যে বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল ৯টার মধ্যে সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। ফলে কৃষি, যাতায়াত এবং ঈদযাত্রায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ তাপমাত্রার বড় ধরনের পরিবর্তন না হলেও ঝড়-বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া কিছুটা অস্থির থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কালবৈশাখী ঝড় সাধারণত মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এই সময় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীলতার কারণে বজ্রঝড়ের সৃষ্টি হয়।
ঈদের মতো বড় উৎসবের দিনে এই ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতি মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও উদযাপনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আগেভাগেই আবহাওয়ার আপডেট জেনে পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে যারা দূরপাল্লার যাত্রায় বের হবেন বা খোলা জায়গায় নামাজ আদায় করবেন, তাদের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
সার্বিকভাবে, ঈদের আনন্দের মাঝেও সম্ভাব্য ঝড়-বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে নিরাপদে চলাচল ও পরিকল্পনা করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।