
যশোরের Aboynagar Upazila-এ স্থানীয় এক বিএনপি নেতার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কামাল খাঁ (৪৫) ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি পিয়ার আলী শেখ সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে Aboynagar Police Station-এ এ অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান।
অভিযুক্ত কামাল খাঁ উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দেয়াপাড়া গ্রামের বাবু খাঁ’র ছেলে। বর্তমানে তিনি বুইকারা গ্রামের বৌবাজার এলাকায় বসবাস করছেন। অপর দুই অভিযুক্তের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে পিয়ার আলী শেখের নওয়াপাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মহাকাল গ্রামে অবস্থিত বাড়িতে কামাল খাঁ ও তার সহযোগীরা অনধিকার প্রবেশ করেন। পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পিয়ার আলীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তারা বাড়ির প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি চালান।
এ সময় পিয়ার আলী বাড়িতে এসে এ ধরনের তল্লাশির কারণ জানতে চাইলে, কামাল খাঁ ও তার সহযোগীরা বাড়িতে অবৈধ স্লাব রাখা আছে বলে অভিযোগ তুলে তার কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
পিয়ার আলী শেখ আরও জানান, তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে হত্যার হুমকি দেন এবং লাশ গুম করার পাশাপাশি সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর সোমবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় কামাল খাঁ তার ফেসবুক আইডি ‘সাংবাদিক কামাল’ থেকে পিয়ার আলীর ছবি ব্যবহার করে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট পোস্ট দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত কামাল খাঁ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো চাঁদা দাবি করেননি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বিষয়ে Aboynagar Police Station-এর ওসি এস এম নুরুজ্জামান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনা এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সার্বিকভাবে, ঘটনাটি অভয়নগর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।