
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু হলেও রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে আসাদ গেট এলাকায় অবস্থিত সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, জ্বালানি তেল নিতে যানবাহনের সারি প্রায় এক কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ হয়েছে।
সেখানে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও মিনি বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় মোটরসাইকেলের সংখ্যা কিছুটা কম দেখা গেছে।
পাম্পে অপেক্ষমাণ এক প্রাইভেট কার চালক মো. জসিম জানান, সাধারণত জ্বালানি নিতে আরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। তবে আজ তুলনামূলক কিছুটা কম সময় লাগছে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, আসাদ গেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকে তেল সরবরাহ শুরু হলেও কিছু সময় পর তা বন্ধ হয়ে যায়। সকাল ১০টার কিছু আগে সেখানে জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এর ফলে ওই পাম্পে অপেক্ষমাণ যানবাহনের দীর্ঘ সারি আরও দীর্ঘ হতে থাকে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে শতাধিক গাড়ির সারি দেখা যায়, যা চালকদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার মো. আজম জানান, পাম্পে জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। নতুন করে তেল সরবরাহ এলে আবার বিতরণ শুরু করা হবে।
তিনি আরও জানান, পুনরায় তেল সরবরাহ শুরু হতে অন্তত দুপুর ২টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করছেন। ফলে জ্বালানি তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এছাড়া অনেক চালক আগাম প্রস্তুতি হিসেবে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করতে চাওয়ায় পাম্পগুলোতে চাপ আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চালকদের দাবি, ঈদের মতো বড় উৎসবের আগে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সুসংগঠিত করা প্রয়োজন, যাতে এ ধরনের ভোগান্তি কমানো যায়।
সার্বিকভাবে, ঈদের ছুটির শুরুতেই রাজধানীর তেল পাম্পগুলোতে এমন চিত্র যাত্রী ও চালকদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।