
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজের পোষা কুকুরের ক্যানসারের চিকিৎসায় একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন অস্ট্রেলীয় প্রযুক্তি উদ্যোক্তা Paul Cunningham।
তার আট বছর বয়সী উদ্ধারকৃত কুকুর ‘রোজি’ মারাত্মক মাস্ট সেল ক্যানসারে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, তার আয়ু মাত্র কয়েক মাস। প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় কানিংহাম নিজেই নতুন সমাধানের খোঁজ শুরু করেন।
এই পর্যায়ে তিনি ব্যবহার করেন ChatGPT এবং এআই প্রোগ্রাম AlphaFold। এই দুটি প্রযুক্তির সহায়তায় তিনি রোজির জন্য একটি ব্যক্তিগতকৃত mRNA ভ্যাকসিন তৈরি করেন।
কানিংহামের দাবি অনুযায়ী, এই ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর রোজির শরীরের টিউমার প্রায় অর্ধেক কমে গেছে এবং তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
মেশিন লার্নিং ও ডেটা অ্যানালাইসিসে দীর্ঘ ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা কানিংহাম গত ডিসেম্বর মাসে নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সহযোগিতায় এই ভ্যাকসিন তৈরি করেন।
একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রথমে রোজির টিউমারের ডিএনএ সিকোয়েন্সিং করা হয়। এরপর সেই তথ্যকে ডেটায় রূপান্তর করে বিশ্লেষণ করা হয়। ChatGPT-এর সহায়তায় ডিএনএ-র সমস্যাগুলো শনাক্ত করে একটি সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি করা হয়।
তিনি আরও জানান, পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে এআই তাকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে, যা চিকিৎসা উদ্ভাবনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
চিকিৎসা শুরুর মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যেই রোজির মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায়। আগে যেখানে ক্যানসারের কারণে সে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, এখন সে অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। এমনকি স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে এসে দৌড়ঝাঁপ করতেও সক্ষম হয়েছে।
তবে কানিংহাম স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই পদ্ধতি ক্যানসারের স্থায়ী নিরাময় নয়। কিন্তু এটি রোজির আয়ু এবং জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে।
এই ভ্যাকসিন ব্যবহারের আগে নীতিগত ও আইনি অনুমোদন পেতে তাকে প্রায় তিন মাস সময় ব্যয় করতে হয়েছে, যা এই ধরনের উদ্ভাবনী চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা (personalized medicine) এবং ক্যানসার চিকিৎসায় এআই-এর সম্ভাবনাকে নতুনভাবে সামনে এনেছে।
এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগীর জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি করা ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
সার্বিকভাবে, পল কানিংহামের এই উদ্যোগ প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের সমন্বয়ে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে জটিল রোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।