
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে Iran সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটি প্রায় দুই হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে United Arab Emirates-এর দিকে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) BBC-এর লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান মূলত আমিরাতের পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সোমবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি ড্রোন হামলার ঘটনায় আগুন লাগার পর সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
এছাড়া ফুজাইরাহ বন্দরের একটি তেল সংরক্ষণ কেন্দ্রে হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। এটি আমিরাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো হওয়ায় ঘটনাটি দেশটির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে রাজধানী আবুধাবির উপকণ্ঠে একটি গাড়িতে রকেট হামলার ঘটনায় একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় মিডিয়া অফিস জানিয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান পাল্টা হামলা শুরু করার পর থেকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এর ফলে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে এবং ফ্লাইট বিলম্বের ঘটনা বাড়ছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলেও হামলার ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দেয়।
বিবিসির সংবাদদাতা আজাদেহ মশিরি এক বিশ্লেষণে জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত মনে করছে যে তাকে এই সংঘাতে অন্যায়ভাবে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইরান হয়তো এই চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে আমিরাতের নেতৃত্বকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যুদ্ধ বন্ধে চাপ সৃষ্টি করতে বাধ্য করতে চায়। তবে বাস্তবে দেশটির কর্মকর্তারা এই হামলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিমান চলাচলে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
সার্বিকভাবে, ইরান ও আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।