
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং সদরঘাটের ওপর অতিরিক্ত চাপ হ্রাস করতে নারায়ণগঞ্জের Rupganj উপজেলার কাঞ্চন সেতু সংলগ্ন শিমুলিয়া টুরিস্ট ঘাট থেকে বরিশাল ও চাঁদপুরগামী বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সার্ভিসের উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী Rajib Ahsan। ফিতা কেটে উদ্বোধনের পর তিনি ঘাটের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, Bangladesh Inland Water Transport Authority-এর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং সংস্থাটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান সাংবাদিকদের জানান, শিমুলিয়া ঘাট থেকে বরিশাল রুটে লঞ্চ চলাচল পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে, যা ঈদ পর্যন্ত চালু থাকবে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে এটিকে স্থায়ীভাবে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীর সদরঘাটে ঈদ মৌসুমে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। এই নতুন সার্ভিস চালুর ফলে সেই চাপ অনেকাংশে কমবে। পাশাপাশি সদরঘাটমুখী সড়কগুলোতে যানজটও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিমুলিয়া ঘাটটি ৩০০ ফিট সড়কের সংযোগস্থলের কাছে হওয়ায় এখানে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও উন্নত। ফলে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, উত্তরা, নরসিংদীসহ আশপাশের বিশাল জনগোষ্ঠী সরাসরি এই ঘাট ব্যবহার করতে পারবে।
এই উদ্যোগ যাত্রীদের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ অনেক যাত্রীকে সদরঘাটে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়। নতুন এই রুট চালুর ফলে তারা বিকল্প নৌপথ ব্যবহার করে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
এছাড়া যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। ঘাট এলাকায় যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
নৌপরিবহন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে এই ধরনের বিকল্প নৌপথ চালু করা হলে যাত্রীদের চাপ সুষমভাবে বণ্টন করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে পরিবহন ব্যবস্থাও আরও কার্যকর হবে।
সার্বিকভাবে, রূপগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে ঈদযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।