
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন জেলা Moulvibazar এখন পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত। বিশেষ করে Sreemangal ও Kamalganj উপজেলা ইতোমধ্যেই ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে।
চায়ের দেশ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের আগমন শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রিসোর্ট, কটেজ, হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোতে ঘোষণা করা হয়েছে আকর্ষণীয় অফার ও বিশেষ সুবিধা।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে ভ্রমণপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হয়ে ওঠে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ। ইতোমধ্যে শহরের বাইরে অবস্থিত রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে আগাম বুকিংয়ের চাপ দেখা গেছে।
শ্রীমঙ্গলের রাধানগর এলাকায় অবস্থিত প্রায় অর্ধশত রিসোর্ট ও কটেজে ঈদের ছুটির ২২ থেকে ২৪ মার্চ—এই তিন দিনের জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এই সময়টিকে ‘পিক টাইম’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
তাদের ধারণা, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বুকিং বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত সব কক্ষ পূর্ণ হয়ে যাবে। অন্যদিকে শহরের ভেতরের হোটেলগুলোতে এখনো তুলনামূলক কম চাপ দেখা যাচ্ছে। বেশিরভাগ হোটেলে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বা তারও কম বুকিং হয়েছে।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন অনেক পর্যটক শহরের কোলাহল এড়িয়ে নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে চান। এজন্য শহরের বাইরে অবস্থিত রিসোর্ট ও কটেজের চাহিদা বাড়ছে।
ঈদকে কেন্দ্র করে জেলার পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরাও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। শ্রীমঙ্গলে বর্তমানে পাঁচতারকা মানের রিসোর্টসহ শতাধিক আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক অবস্থান করতে পারেন।
রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফেগুলোও নতুন সাজে সজ্জিত হয়েছে। পর্যটকদের জন্য খাবারের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে বাংলা, চাইনিজ ও থাই খাবারের পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী খাবারও।
কমলগঞ্জের টিলাগাঁও ইকো ভিলেজের ব্যবস্থাপক জানান, পর্যটকদের জন্য মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ২২ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৯৫ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।
বিভিন্ন রিসোর্ট কর্তৃপক্ষও জানিয়েছেন, ঈদের সময় দেশি পর্যটকদের চাপ বেশি থাকে এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। অনেক রিসোর্টে ইতোমধ্যে বুকিং প্রায় শতভাগ পূর্ণ হয়ে গেছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর মৌলভীবাজার জেলা হাওর, পাহাড় ও টিলাবেষ্টিত এক অনন্য লীলাভূমি। সবুজ চা বাগান, জীববৈচিত্র্য এবং মনোরম পরিবেশের কারণে এই অঞ্চল দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
শ্রীমঙ্গলে রয়েছে চা বাগান, হাইল হাওর, বাইক্কার বিল, সাত রঙের চা, বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রসহ নানা আকর্ষণীয় স্থান।
অন্যদিকে কমলগঞ্জে রয়েছে Lawachara National Park, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবপুর লেকসহ আরও অনেক দর্শনীয় স্থান, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনও বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতেই এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সার্বিকভাবে, ঈদকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ এখন পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার সমন্বয়ে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা উপভোগ করা সম্ভব।