
দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর শেষ হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। ইতোমধ্যে দেশে শুরু হয়েছে ঈদের ছুটি এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করতে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহর থেকে মানুষ গ্রামে ফিরতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে সবার মনে প্রশ্ন—বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর কবে উদযাপিত হবে?
জানা গেছে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে দেশে ঈদের তারিখ নির্ধারিত হবে। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের ঈদুল ফিতর ২১ মার্চ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
মধ্যপ্রাচ্য ও আরব বিশ্বের কিছু দেশে শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদ উদযাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বুধবার (১৮ মার্চ) বৈঠক করবে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাওয়াল মাসের শুরু এবং ঈদের দিন চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে।
এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, এবারের রমজান মাস ৩০ দিন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তার মতে, বুধবার সন্ধ্যায় আরব অঞ্চলে চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
এই তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ২০ মার্চ ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। আর বাংলাদেশে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর ঈদ উদযাপিত হয়। ফলে দেশের প্রেক্ষাপটে ২১ মার্চ ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে ঈদের তারিখ নির্ধারণের জন্য জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রমজানের ২৯তম দিনে কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদ দেখা গেলে পরদিন শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদ উদযাপিত হবে।
তবে যদি সেদিন চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং পরদিন শনিবার (২১ মার্চ) দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ছুটি শুরু হয়েছে। মানুষজন পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। বাস, ট্রেন ও লঞ্চে যাত্রীদের ভিড়ও ক্রমেই বাড়ছে।
ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর এই উৎসবের আনন্দ আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই ঈদের দিন নির্ধারণ নিয়ে মানুষের আগ্রহও থাকে সবচেয়ে বেশি।
সার্বিকভাবে বলা যায়, চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। তবে বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী বাংলাদেশে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।