
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রণালিকে সচল রাখতে মিত্র দেশগুলো এগিয়ে না এলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘খুব খারাপ’ হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন Donald Trump।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যানশিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যারা হরমুজ প্রণালির সুবিধাভোগী, তাদেরই এই জলপথ নিরাপদ রাখার দায়িত্ব নেওয়া উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, চীন এবং ইউরোপের দেশগুলো এই প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হলেও তারা এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে এটি অবরুদ্ধ হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ট্রাম্প ইতোমধ্যেই এই প্রণালি সচল রাখতে সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি চীন, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যকে এই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, মিত্র দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিরাপদ রাখা সম্ভব নয়।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, যদি মিত্র দেশগুলো এই আহ্বানে সাড়া না দেয় বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায়, তাহলে তা ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য ভালো হবে না। তিনি সরাসরি ইঙ্গিত দেন, জোটের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার অভাব ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি করতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজে হরমুজ প্রণালির ওপর তুলনামূলকভাবে কম নির্ভরশীল হলেও ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো এই পথের ওপর বেশি নির্ভরশীল। তাই তাদেরই এই জলপথ সচল রাখতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত।
সহযোগিতার ধরন সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, মিত্র দেশগুলো মাইনসুইপার বা মাইন অপসারণকারী জাহাজ পাঠিয়ে সহায়তা করতে পারে। এর মাধ্যমে প্রণালিতে থাকা সম্ভাব্য ঝুঁকি দূর করা সম্ভব হবে।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় মিত্রদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন সেই সহযোগিতার প্রতিদান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রও মিত্রদের কাছ থেকে সমর্থন প্রত্যাশা করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। মিত্রদের প্রতি এমন কঠোর অবস্থান জোটের ঐক্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রণালি অবরুদ্ধ থাকলে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের সম্ভাবনা বাড়বে, যা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
সার্বিকভাবে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং বৈশ্বিক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের সতর্কবার্তা সেই উত্তেজনাকেই আরও সামনে নিয়ে এসেছে।