
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে একাধিক ড্রোন ও রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলাটি সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম তীব্র হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলার সময় তিনটি ড্রোন ও চারটি রকেট দূতাবাসকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে দুটি ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হলেও অন্তত একটি ড্রোন দূতাবাস চত্বরের ভেতরে আঘাত হানে।
এই হামলার মাত্র ছয় ঘণ্টা আগে মার্কিন দূতাবাস থেকে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। সতর্ক বার্তায় বলা হয়, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বাগদাদের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অঞ্চলে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে।
বাগদাদের গ্রিন জোন, যেখানে এই দূতাবাসটি অবস্থিত, ইরাকের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং বিভিন্ন দেশের দূতাবাস অবস্থিত। তবুও সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকায় হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) গ্রিন জোনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ধারাবাহিক এই হামলাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, বাগদাদে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত এই হামলার ধারা অব্যাহত ছিল। এতে বোঝা যাচ্ছে, হামলাগুলো ছিল পরিকল্পিত এবং ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন দূতাবাসে হামলা কেবল একটি সামরিক বা নিরাপত্তাজনিত ঘটনা নয়, বরং এটি কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রশ্ন তোলে।
এদিকে এখনো পর্যন্ত হামলায় হতাহতের কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে এবং হামলার উৎস ও দায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
সার্বিকভাবে, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে এই ড্রোন ও রকেট হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি শুধু ইরাক নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।