
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে ফ্রান্সের সামরিক সক্ষমতায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে দেশটির অত্যাধুনিক ‘মিকা’ (MICA) আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে আসছে বলে জানা গেছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা ট্রিব্যুন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় পরিচালিত অভিযানে ফ্রান্সের যুদ্ধবিমানগুলোকে ধারাবাহিকভাবে ইরানি ড্রোন ধ্বংস করতে হচ্ছে। এতে করে ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে এবং মজুদে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এই অভিযানে প্রধান ভূমিকা পালন করছে ফ্রান্সের অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান। এই জেটগুলো ব্যবহার করে ইরানের পাঠানো ড্রোনগুলোকে লক্ষ্য করে ‘মিকা’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে ড্রোন হামলার ঘনত্ব ও ব্যাপকতার কারণে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা ফরাসি প্রতিরক্ষা ভাণ্ডারে ঘাটতি তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি ফ্রান্সের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক প্রস্তুতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, একদিকে মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রাখাও জরুরি।
বর্তমানে ফ্রান্স পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-বিরোধী জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মিত্র দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে তাদের নিজস্ব অস্ত্রভাণ্ডারের একটি বড় অংশ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
ইরানের পক্ষ থেকে ব্যাপক হারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ও পশ্চিমা সামরিক স্থাপনাগুলো রয়েছে। ফলে এই হামলা প্রতিহত করতে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি ড্রোনগুলোর পাল্লা ও সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠছে। প্রতিটি ড্রোন ধ্বংস করতে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।
এদিকে এই সংঘাত শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিমান চলাচলেও প্রভাব ফেলছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে অনেক ফ্লাইটের রুট পরিবর্তন করতে হচ্ছে এবং এতে বৈশ্বিক পরিবহন ব্যবস্থায়ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
ফরাসি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এখন এ নিয়ে জরুরি আলোচনা শুরু হয়েছে। কীভাবে চলমান সামরিক অভিযান চালু রেখে একই সঙ্গে নিজেদের অস্ত্র মজুদ বজায় রাখা যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই সংকট কাটিয়ে উঠতে ফ্রান্স ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়া বা দ্রুত নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে পারে বলে জানা গেছে। তবে অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহে সময় লাগে, যা তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।
সার্বিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, বরং সামরিক সরঞ্জামের প্রাপ্যতা ও ব্যবস্থাপনাকেও বড় পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। ফ্রান্সের ‘মিকা’ ক্ষেপণাস্ত্র সংকট সেই বাস্তবতারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ, যা ভবিষ্যতে আরও বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।