
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সুস্পষ্ট কৌশল নেই বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন সিনেটর Mark Kelly। তিনি সরাসরি Donald Trump প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেছেন, এই যুদ্ধ শুরু থেকেই পরিকল্পনাহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসনের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে যে যুদ্ধের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা সুসংগঠিত পরিকল্পনা নেই।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব Pete Hegseth-এর দেওয়া ‘নো কোয়ার্টার’ বা ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ মন্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন কেলি। তার মতে, এই ধরনের বক্তব্য শুধু বিতর্কিতই নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘নো কোয়ার্টার’ শব্দটি এমন একটি সামরিক নির্দেশনা বোঝায়, যেখানে শত্রুপক্ষকে জীবিত আটক না করে সরাসরি হত্যা করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এটি জেনেভা ও হেগ কনভেনশন অনুযায়ী সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আহত বা আত্মসমর্পণ করতে ইচ্ছুক যোদ্ধাদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ।
কেলি অভিযোগ করেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন সপ্তাহ পার হলেও প্রশাসন এখনো তাদের উদ্দেশ্য নির্ধারণে ব্যর্থ। তিনি বলেন, প্রশাসন পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদ্দেশ্য তৈরি করছে, যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে মার্কিন সেনাদের এবং সাধারণ নাগরিকদের।
তিনি আরও জানান, প্রতিরক্ষা সচিবকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে ‘নো কোয়ার্টার’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। কেলির ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক আইনের ইতিহাসে এই শব্দটির ব্যবহার অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এটি যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে।
এই সংঘাতের সূচনা হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে বড় ধরনের হামলা চালায়। ওই হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতেও। এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। কেলি এই বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, পরিকল্পনাহীন যুদ্ধের কারণে সেনাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
এছাড়া যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। কেলির মতে, সংঘাতের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ আমেরিকানদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের অদূরদর্শী পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তা কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কেলি মনে করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের নিজস্ব ম্যানুয়ালেও ‘কাউকে জীবিত না রাখার ঘোষণা দেওয়া নিষিদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে এই ধরনের বক্তব্য শুধু বিতর্কই তৈরি করছে না, বরং তা নীতিগত প্রশ্নও তুলছে।
সার্বিকভাবে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এখন শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি রাজনৈতিক, আইনি ও অর্থনৈতিক নানা বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠছে।