
পবিত্র ঈদুল ফিতর শেষে কর্মস্থলে ফেরার জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি কার্যক্রম চলছে। এই কার্যক্রমের পঞ্চম দিনে আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিক্রি করা হচ্ছে আগামী ২৭ মার্চের ট্রেনের আসনের টিকিট। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই টিকিট বিক্রি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এবারও আন্তঃনগর ট্রেনের সাত দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে শতভাগ টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে কাউন্টারভিত্তিক ভিড় এড়ানো যায় এবং যাত্রীরা সহজেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। অন্যদিকে দুপুর ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন।
এর আগে গত ১৩ মার্চ বিক্রি হয়েছে ২৩ মার্চের টিকিট। পরদিন ১৪ মার্চ বিক্রি হয় ২৪ মার্চের টিকিট এবং ১৫ মার্চ বিক্রি হয় ২৫ মার্চের টিকিট। গতকাল ১৬ মার্চ বিক্রি হয়েছে ২৬ মার্চের টিকিট। এই ধারাবাহিকতায় আজ ১৭ মার্চ বিক্রি হচ্ছে ২৭ মার্চের টিকিট।
রেলওয়ের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৮ মার্চ বিক্রি করা হবে ২৮ মার্চের টিকিট এবং ১৯ মার্চ বিক্রি হবে ২৯ মার্চের টিকিট। এভাবে ধাপে ধাপে ঈদ-পরবর্তী যাত্রীদের জন্য ফিরতি যাত্রার টিকিট সরবরাহ করা হচ্ছে।
তবে ২০, ২১ ও ২২ মার্চের ট্রেনের টিকিট বিক্রি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে। ঈদের তারিখ নির্ধারণের সঙ্গে সঙ্গেই এসব দিনের টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
যাত্রীদের সুবিধার্থে রেলওয়ে কিছু অতিরিক্ত সুবিধাও চালু রেখেছে। নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ টিকিট দাঁড়িয়ে যাত্রার জন্য সংরক্ষিত থাকবে, যা ট্রেন ছাড়ার আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এতে করে যাত্রীরা শেষ মুহূর্তেও ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
এছাড়া, ঈদ যাত্রার অগ্রিম টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। একজন যাত্রী একবারই টিকিট কিনতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ চারটি আসনের টিকিট সংগ্রহের সুযোগ থাকবে। এতে করে টিকিট কালোবাজারি বা অতিরিক্ত মজুত প্রতিরোধ করা সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কেনা টিকিট ফেরত বা রিফান্ড করা যাবে না। তাই যাত্রীদের টিকিট কেনার সময় যথেষ্ট সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে পরবর্তীতে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।
সার্বিকভাবে, ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বাংলাদেশ রেলওয়ের এই বিশেষ উদ্যোগ যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনলাইনভিত্তিক টিকিট ব্যবস্থা এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করলে যাত্রীরা সহজেই তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা সম্পন্ন করতে পারবেন।