
নওগাঁ সদর উপজেলায় একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে টাস্কফোর্স। অভিযানে প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ, যা ‘আইস’ নামে পরিচিত, উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৬ মার্চ) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, নওগাঁ থেকে বগুড়াগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ক্রিস্টাল মেথ পাচারের চেষ্টা হতে পারে। এ তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
১৬ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার ও সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল গঠন করা হয়। পরে তারা নওগাঁ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নজরদারি জোরদার করে এবং নির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে নওগাঁ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত কুমার এবং নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরাসরি অংশ নেন। যৌথ এই অভিযানের ফলে ঘটনাস্থলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
অভিযান চলাকালে সাহাপুর এলাকার হোটেল মল্লিকার সামনে সন্দেহভাজন যাত্রীবাহী বাসটি থামানো হয়। এরপর বাসটির ভেতরে তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ তল্লাশির একপর্যায়ে বাসের ভেতরে মালিকবিহীন অবস্থায় একটি প্যাকেট থেকে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি। এত বিপুল পরিমাণ উচ্চমূল্যের মাদক উদ্ধার হওয়ায় বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে অভিযানের সময় মাদক বহনের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা আগেই সরে পড়েছে বা মাদকটি ফেলে রেখে পালিয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে (১৭ মার্চ) ১৬ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য নওগাঁ সদর মডেল থানায় জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এবং আশপাশের এলাকায় মাদক পাচার ও অবৈধ চোরাচালান রোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
সার্বিকভাবে, এই অভিযানের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হয়েছে যে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দিয়ে মাদক পাচারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের কারণে এসব কার্যক্রম প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে।