
রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবিতে চলা আন্দোলন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বক্তব্য সামনে এসেছে। গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও মুখপাত্র ফারুক হাসান দাবি করেছেন, আন্দোলন থামাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর নেতারা তাকে বহুবার ফোন করেছিলেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) এ সংক্রান্ত তার একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে ফারুক হাসান বলেন, রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দাবিতে তারা আন্দোলন করেছিলেন।
তিনি বলেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা বঙ্গভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং সেখানে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তার দাবি, সেই সময় জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় বিরোধিতা করেছিল।
ফারুক হাসান বলেন, আন্দোলন চলাকালে তার কাছে একাধিকবার ফোন আসে।
তিনি দাবি করেন, ওই সময়কার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং মাহফুজ আলম তাকে বহুবার ফোন করেছিলেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা তাকে অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে বঙ্গভবনের সামনে চলমান আন্দোলন বন্ধ করে দেন।
তিনি বলেন, তার ফোনে ওই সময় অন্তত কয়েকশবার কল এসেছিল এবং আন্দোলন বন্ধ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।
ফারুক হাসান আরও বলেন, তখন নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলম ক্ষমতার অবস্থানে ছিলেন।
তার মতে, যদি তারা সত্যিই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে চাইতেন, তাহলে ক্ষমতায় থাকার সময়ই তারা উদ্যোগ নিতে পারতেন।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, তখন কেন তারা রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নেননি।
ফারুকের দাবি, সেই সময় ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী ছিলেন না।
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি করে।
তবে ফারুক হাসানের এই দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি অপসারণ ইস্যু এবং বঙ্গভবন ঘিরে আন্দোলনের মতো বিষয়গুলো দেশে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
অনেকে এটিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের দাবি তুলছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।