
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান টানা ১৭ দিনে গড়িয়েছে। চলমান এই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান যদি শর্তহীনভাবে আত্মসমর্পণ না করে তাহলে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না এবং যুদ্ধ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত একমাত্র তাদের অধিকার।
এই পরিস্থিতিতে সংঘাত কতদিন চলতে পারে সে বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানে এখনো হাজার হাজার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু রয়েছে এবং এসব লক্ষ্যবস্তুর ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
রোববার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ইরানে এখনও হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তু রয়েছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন টার্গেট শনাক্ত করা হচ্ছে।
তার মতে, চলমান সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এসব লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েল অন্তত আগামী তিন সপ্তাহের সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে।
ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব পাসওভার পর্যন্ত এই পরিকল্পনা কার্যকর থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া এই সময়ের পরের পর্যায়ের জন্যও আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে ইসরায়েলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া বিষয়ক মন্ত্রী মিকি জোহার দেশবাসীকে সম্ভাব্য দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে।
ইসরায়েলের রেডিও ১০৩ এফএমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিকি জোহার বলেন, সামনের দিনগুলোতে যুদ্ধের মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
তাই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তার মতে, চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই সংঘাত বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।