
জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপ থেকে দুই হাজারেরও বেশি মার্কিন মেরিন সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার পরপরই ওয়াশিংটন এই নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওকিনাওয়ায় দায়িত্ব পালনকারী ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্যদের নিয়ে উভচর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে।
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাচিবো বন্দর থেকে এই যুদ্ধজাহাজটি রওনা দেয়।
জাহাজটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে সজ্জিত বলে জানা গেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধজাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে প্রায় এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
জাপানে বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সেনা ওকিনাওয়া দ্বীপে অবস্থান করেন।
সেখান থেকে এই বড় সংখ্যক সেনা সরিয়ে নেওয়ার ফলে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগর ও পূর্ব চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ-তৎপরতা এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে অঞ্চলটি ইতোমধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে জাপানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমে যাওয়াকে অনেক আঞ্চলিক বিশ্লেষক ভালোভাবে দেখছেন না।
তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বেশি মনোযোগ দেয়, তাহলে পূর্ব এশিয়ায় তাদের সামরিক ভারসাম্য দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
এদিকে এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদে পিয়ংইয়ং এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ওকিনাওয়া থেকে মেরিন সেনাদের মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর জাপানের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
জাপানি প্রশাসনের অনেকেই মনে করছেন, এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সাময়িক শূন্যতা তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা সামাল দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি কিছুটা কমিয়ে ফেলতে পারে।
এতে চীনের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পেন্টাগনের এই কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে শুধু জাপান নয়, বরং পুরো এশীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউএসএস ত্রিপোলির মতো শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করার অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র সেখানে দীর্ঘমেয়াদি ও বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এর ফলে পূর্ব এশিয়ায় সম্ভাব্য কোনো সংকটে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর মার্কিন সক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।