
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক কিশোরীর শরীরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রোববার (১৫ মার্চ) উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত কিশোরীর নাম রাইসা আক্তার। সে দিনমজুর নজরুল হাওলাদারের মেয়ে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার জালাল শিকদারের ছেলে সিফাত শিকদারের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিফাত দীর্ঘদিন ধরে রাইসাকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
রোববার দুপুর প্রায় ১২টার দিকে রাইসা রাস্তায় যাওয়ার সময় সিফাত তার পথরোধ করে বলে স্থানীয়রা জানান।
এ সময় সিফাতের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে রাইসার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় পাশের বাড়ির প্রতিবেশী তসলিম বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত রাইসাকে উদ্ধার করে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কিছু সময় পরই রোববার রাতে রাইসার মৃত্যু হয়।
এদিকে ঘটনার পরপরই কিশোরীর গায়ে আগুন দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই ভিডিওতে রাইসা আক্তার তার জবানবন্দিতে সিফাতকে অভিযুক্ত করেছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে রাইসার বাবা নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মেয়েকে হারানোর শোকে অসুস্থ হয়ে পড়ায় কথা বলতে চাননি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সিফাত শিকদারের বাবা জালাল শিকদার দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তার ছেলে নদীর পাড়ে গোসল করতে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, পরে তিনি শুনেছেন যে রাইসা আগুনে দগ্ধ হয়েছে। তার দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তার ছেলে জড়িত নয়।
ঘটনার পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ এহতেশামুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।