
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা শুরু হচ্ছে আজ থেকেই। যদিও সাত দিনের সরকারি ছুটি আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে, তবে অনেকেই ইতোমধ্যে বাড়ির পথে রওনা দিতে শুরু করেছেন।
এদিকে ঈদযাত্রায় সম্ভাব্য যানজট ও ভোগান্তি কমাতে গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ও পোশাক কারখানার মালিকদের সর্বসম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, সরকারি ছুটি সাত দিনের হলেও পোশাক কারখানাগুলোতে এ ছুটি প্রায় ৭ থেকে ১০ দিনের মতো হচ্ছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল থেকে অনেক পোশাক কারখানায় ছুটি শুরু হবে। ধারাবাহিকভাবে এই ছুটি আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পর্যন্ত চলবে।
এতে করে পোশাক শ্রমিকরা টানা চার দিন ধরে ধাপে ধাপে তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে পারবেন।
কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই পদ্ধতির ফলে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষের যাত্রা কমবে এবং সড়কে যানজট ও ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
জানা গেছে, সোমবার বিকেলেই গাজীপুরের বেশ কিছু পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করবে।
এরপর সন্ধ্যার পর থেকেই ছুটি পাওয়া পোশাক শ্রমিকরা ঈদ উদযাপনের জন্য তাদের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হবেন।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদযাত্রার মূল চাপ শুরু হবে বুধবার দুপুর থেকে।
এদিকে অনেক শ্রমিক ইতোমধ্যে তাদের পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, পোশাক শ্রমিকদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে একসঙ্গে সব কারখানা ছুটি না দিয়ে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এতে করে শ্রমিকরা একসঙ্গে রাস্তায় বের হবেন না এবং সড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে না। ফলে যানজট কমবে এবং শ্রমিকদের ভোগান্তিও কম হবে।
তিনি আরও জানান, সোমবার বিকেল থেকেই পোশাক শ্রমিকরা নিজ নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব প্রস্তুতির ফলে এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হবে এবং ঘরমুখো যাত্রীরা নির্বিঘ্নে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।