
দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ দিনাজপুর থেকে দেশের ৫৩ জেলায় একযোগে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী দিনে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় খাল খনন কাজে অংশ নিতে প্রায় ৪০০ শ্রমিক প্রস্তুত রয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল থেকেই শ্রমিকরা কোদাল, ডালি ও বেড়ুয়া নিয়ে কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় অবস্থান করছেন। প্রধানমন্ত্রী খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রমিকরা খননকাজে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তনগর ঢেপা নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।
এই খালটি বলরামপুর সাহাপাড়া হয়ে তেলমাখার ঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত। পুরো খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ দশমিক ২০ কিলোমিটার।
এই খাল খননের মাধ্যমে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং স্থানীয় কৃষকেরা উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারা দেশে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলাশয় খনন এবং পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনাজপুর থেকে একযোগে দেশের ৫৩টি জেলায় খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।
এদিকে খাল খনন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জনসভাস্থলে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সেখানে জড়ো হচ্ছেন।
খনন কাজে অংশ নিতে আসা শ্রমিক আব্দুল করিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে ছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হতো।
তিনি বলেন, খননকাজ শুরু হওয়ায় তারা খুশি। এতে এলাকার পানি চলাচল সহজ হবে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা কমবে।
স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন বলেন, খালটি খনন হলে জমিতে সেচ দেওয়া সহজ হবে। এতে কৃষকরা অনেক উপকৃত হবেন।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে থাকার কারণে কৃষিকাজে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছিল।
স্থানীয়দের আশা, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও উন্নত হবে।