
দাপুটে জয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতে সিরিজে সমতা ফেরায় পাকিস্তান। ফলে মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ওয়ানডেটি হয়ে ওঠে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ।
রোববার (১৫ মার্চ) টস জিতে পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সতর্ক সূচনা করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। শুরুতে উইকেট সামলে খেললেও ধীরে ধীরে রানের গতি বাড়াতে থাকেন তারা।
দুজনের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে বিনা উইকেটে ৫০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
এই জুটিতে সাইফের তুলনায় বেশি আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকেন তানজিদ তামিম। নিয়মিত বাউন্ডারি হাঁকিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন তিনি। ৪৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন এই টাইগার ওপেনার।
দুজনের ব্যাটে শতরানের জুটির দেখা পায় বাংলাদেশ।
তবে দলীয় ১০৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ৫৫ বলে ৩৬ রান করে শাহীন আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান।
এরপর ক্রিজে এসে তানজিদ তামিমকে সঙ্গ দেন নাজমুল হাসান শান্ত। দুজন মিলে রানের গতি ধরে রাখেন এবং ৫৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তোলেন।
তবে দলীয় ১৫৮ রানে এই জুটি ভাঙে। ৩৪ বলে ২৭ রান করে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন শান্ত।
অন্যদিকে একপ্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত ব্যাটিং চালিয়ে যান তানজিদ তামিম। ধৈর্য ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মিশেলে শতকের দিকে এগোতে থাকেন তিনি।
৯৮ বলে তিন অঙ্কের ঘর স্পর্শ করেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ৯৪ রানে থাকা অবস্থায় সালমান আগাকে ছক্কা মেরে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।
এটি ওয়ানডে ক্রিকেটে তানজিদ হাসান তামিমের প্রথম সেঞ্চুরি।
তবে শতক পূর্ণ করার পর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি তিনি। ৬টি চার ও ৭টি ছক্কার সাহায্যে ১০৭ বলে ১০৭ রান করে আউট হন এই ওপেনার।
এরপর লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়ের জুটিতে আবারও কিছুটা গতি পায় বাংলাদেশের ইনিংস। দুজন মিলে ৬৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তোলেন।
তবে ইনিংসের শেষ দিকে দ্রুত দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৫১ বলে ৪১ রান করে আউট হন লিটন দাস। আর রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান রিশাদ হোসেন।
শেষ দিকে তাওহিদ হৃদয়ের ৪৮ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৯০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
ফলে পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ২৯১ রান।
পাকিস্তানের হয়ে পেসার হারিস রউফ তিনটি উইকেট শিকার করেন।