
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানে প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২২৩ জন নারী এবং ২০২ জন শিশু নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে তিনজন অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী ১২টি শিশুও রয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তেহরান কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুধু প্রাণহানিই নয়, হামলায় বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
বিশেষ করে অন্তত ৪১ জন শিশু গুরুতরভাবে আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও রয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে হামলার কারণে ইরানের স্বাস্থ্য খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
সরকারি তথ্যমতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৫৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এসব হামলার ফলে অনেক চিকিৎসা কেন্দ্র আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফলে দেশের চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতালগুলোও চরম চাপের মধ্যে রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে স্বাস্থ্য খাতের ওপর যে ক্ষতি হয়েছে তা দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ইরান পাল্টা হামলা শুরু করেছে।
এর অংশ হিসেবে ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পুরো অঞ্চল এখন এক ভয়াবহ সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে।