
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলের একটি গ্রামে বন্দুকধারী ডাকাতদের হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। হামলার পর হামলাকারীরা গবাদি পশুসহ বিভিন্ন সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় একটি উন্নয়ন সংস্থা। বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত শুক্রবার দেশের মধ্যাঞ্চলীয় প্লাতু রাজ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটে। কানাম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (কেএডিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, সশস্ত্র বন্দুকধারীরা ওই এলাকায় হামলা চালায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, হামলাকারীরা প্রথমে নিয়মিত টহলরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং সংঘর্ষের সময় ১২ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন।
একই ঘটনায় আরও ৮ জন গ্রামবাসী প্রাণ হারান বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ফলে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ২০ জনে।
হামলার পর বন্দুকধারীরা কাছের একটি গ্রামে ঢুকে পড়ে। সেখানে তারা গবাদি পশুসহ বিভিন্ন সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। এতে স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কানাম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এই হামলা ইতোমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন।
নাইজেরিয়ায় গ্রামবাসীরা যেসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ‘ডাকাত’ বলে উল্লেখ করে, তারা প্রায়ই বিভিন্ন গ্রামে হামলা চালিয়ে থাকে। এসব হামলায় অনেক সময় গণহত্যা, অপহরণ এবং মুক্তিপণের জন্য লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের মধ্যাঞ্চলের গ্রামগুলো বারবার এমন হামলা ও অপহরণের শিকার হয়েছে। এতে করে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়া বর্তমানে বিদ্রোহসহ নানা ধরনের নিরাপত্তা সংকটের মুখে রয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে চরমপন্থী গোষ্ঠী, সশস্ত্র ডাকাত দল এবং অন্যান্য সহিংস গোষ্ঠীর সক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দেশটির সেনাবাহিনী চরমপন্থী ইসলামপন্থী সহিংসতার বিস্তার ঠেকাতে লড়াই করছে। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে বিশ্লেষকদের মত।