
ইরানে সরকার পতনের সঙ্গে সঙ্গেই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে তেহরানের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি। শনিবার (১৪ মার্চ) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পাহলভি বলেন, ইরানে সরকার পতনের পর যাতে দেশটির শাসনব্যবস্থায় কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে, সে লক্ষ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একটি রূপান্তর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তার মতে, সরকারের পতনের পর দ্রুত একটি কার্যকর অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন করা প্রয়োজন, যাতে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
প্রয়াত ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভি বর্তমানে নির্বাসনে আছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরোধী রাজনীতির একটি পরিচিত মুখ হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন।
পাহলভি জানান, ইরানের ভেতরে এবং বাইরে এমন অনেক যোগ্য ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দেশের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, এই ব্যক্তিরা তেহরান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতনের সঙ্গে সঙ্গেই তার নেতৃত্বে একটি ট্রানজিশনাল সিস্টেম দেশের শাসনভার গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত দেশে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পাহলভির মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করাই অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য হবে। একই সঙ্গে দেশের সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাও এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
১৯৭৯ সালে ইরানে রাজতন্ত্রের পতনের মাধ্যমে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই পাহলভি নির্বাসনে জীবনযাপন করছেন। সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে এবং নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার সূচনা হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি নিজেকে ইরানের একটি ঐক্যবদ্ধ বিরোধী কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে আসছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে আসছেন এবং ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মতামত প্রকাশ করছেন।
পাহলভি অঙ্গীকার করেছেন যে, ইরানে ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা থেকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ রূপান্তরে তিনি ভূমিকা রাখতে চান। তার মতে, একটি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল ইরান গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য।
এদিকে ইরানে সরকার পতনের লক্ষ্য নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটিতে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দেশ দুইটির যৌথ হামলা রোববার পর্যন্ত ১৬ দিনে গড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সম্ভাব্য রূপান্তর নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরদার হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।