
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের সময় যেসব পরিবার বাসা ফাঁকা রেখে বাইরে যাবেন, তারা চাইলে স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী থানায় নিরাপদে রাখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
রোববার (১৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশেষ করে রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল, একটি লঞ্চ টার্মিনাল এবং প্রধান রেলস্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি এবং যাত্রী হয়রানি রোধে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডিএমপি কমিশনার জানান, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি এবং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্লক রেইড ও অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঈদের সময় অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান।
এ কারণে রাজধানী তুলনামূলকভাবে ফাঁকা হয়ে যায়।
এই সুযোগে অপরাধীরা যাতে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে।
আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা এবং কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের বিভিন্ন বিশেষ ইউনিটও মাঠে থাকবে।
ডিএমপি কমিশনার জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ডগ স্কোয়াড, সোয়াট টিম, বোম ডিসপোজাল ইউনিট এবং মাউন্টেড পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব নাগরিকের বাসায় আত্মীয়-স্বজন নেই এবং বাসা ফাঁকা রেখে বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তারা চাইলে তাদের স্বর্ণালংকার বা মূল্যবান জিনিসপত্র থানায় নিরাপদে রাখতে পারবেন।
প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নিতে নাগরিকদের কোনো দ্বিধা না করার আহ্বান জানান তিনি।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার নগরবাসীর উদ্দেশে আরও কিছু সতর্কতামূলক পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ঈদের সময় বাসা ছেড়ে বাইরে যাওয়ার আগে দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ করে যেতে হবে।
সিসি ক্যামেরা সচল রাখা এবং আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
যাত্রাপথে অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার গ্রহণ না করার জন্য যাত্রীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এছাড়া নগদ অর্থ এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নিজের হেফাজতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধি দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে।