
কোম্পানি করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আরও এক মাস বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোম্পানিগুলো এখন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবে।
রোববার (১৫ মার্চ) এনবিআরের করনীতি শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সময়সীমা বৃদ্ধির কথা জানানো হয়।
এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (করনীতি) মো. একরামুল হকের সই করা ওই আদেশে বলা হয়েছে, আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ৩৩৪-এর দফা (খ)-এর ক্ষমতাবলে এই সময় বাড়ানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাভাবিক করদাতা এবং হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের করদাতা—অর্থাৎ কোম্পানি করদাতাদের জন্য এই সময়সীমা বৃদ্ধি কার্যকর হবে।
এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫–২৬ করবর্ষের জন্য কোম্পানি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা এক মাস বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে কোম্পানিগুলোর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ছিল ১৫ মার্চ।
তবে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি এবং করদাতাদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে এনবিআর সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে পারেনি।
বিশেষ করে হিসাব সংক্রান্ত নথি, আর্থিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত করতে অনেক প্রতিষ্ঠানের আরও সময় প্রয়োজন হয়।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে করদাতাদের সুবিধার্থে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
এনবিআরের এই সিদ্ধান্তের ফলে কোম্পানিগুলো এখন অতিরিক্ত এক মাস সময় পাচ্ছে।
ফলে তারা কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের কর সংক্রান্ত নথিপত্র এবং রিটার্ন জমা দিতে পারবে।
বাংলাদেশের আয়কর আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে করদাতাদের বিরুদ্ধে জরিমানা এবং অতিরিক্ত কর আরোপের বিধান রয়েছে।
এ কারণে সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অনেক কোম্পানির জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সময় বাড়ানোর ফলে কোম্পানিগুলো আরও সঠিকভাবে তাদের আর্থিক তথ্য উপস্থাপন করতে পারবে।
এতে কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা সহজ হবে এবং করদাতারাও নির্ভুলভাবে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
প্রতিবছর কর মৌসুমে রিটার্ন দাখিলের সময় ঘনিয়ে এলে অনেক প্রতিষ্ঠান সময় বাড়ানোর আবেদন করে থাকে।
কর প্রশাসনও পরিস্থিতি বিবেচনা করে কখনো কখনো সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এবারও সেই ধারাবাহিকতায় কোম্পানি করদাতাদের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
এনবিআর আশা করছে, নির্ধারিত নতুন সময়ের মধ্যে কোম্পানিগুলো তাদের রিটার্ন জমা দিয়ে কর সংক্রান্ত সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।