
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জাল নোট ব্যবহার করে লেনদেনের চেষ্টা করার সময় মো. ওহিদুল (১৮) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে এক হাজার টাকার ১৪টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে পৌর শহরের জগন্নাথ নাট মন্দির সংলগ্ন উপজেলা সড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ওহিদুল উপজেলার পূর্ব মধুখালী গ্রামের বাসিন্দা এবং মোতাহার তালুকদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সকালে ওহিদুল উপজেলা সড়কের ‘মনিরুল ভ্যারাইটিজ’ নামের একটি দোকানে যান। সেখানে তিনি বিকাশের মাধ্যমে ১৪ হাজার টাকা পাঠানোর চেষ্টা করেন।
টাকাগুলো হাতে নেওয়ার পর দোকান মালিক মনিরুলের সন্দেহ হয়। তিনি নোটগুলো ভালোভাবে পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন সেগুলো জাল।
বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি দ্রুত পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওহিদুলকে আটক করে। পরে তার কাছ থেকে ১৪টি এক হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সহযোগী এবং এই জাল নোট চক্রের মূলহোতা হিসেবে সন্দেহভাজন মেহেদী হাসান (২৮) ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক মেহেদীকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে জাল নোট চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, ঈদের সময় কেনাবেচা ও আর্থিক লেনদেন বাড়ার সুযোগে এসব চক্র সাধারণ মানুষকে প্রতারণার চেষ্টা করে।
এই ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানান তিনি।
ওসি রবিউল ইসলাম আরও বলেন, সাধারণ মানুষকে জাল নোট সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের টাকা লেনদেনের সময় নোট ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওহিদুল একটি সংগঠিত জাল নোট চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঈদকে সামনে রেখে বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে তারা নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে।
সাধারণ মানুষকে সন্দেহজনক লেনদেন বা জাল নোটের বিষয়ে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।